Saturday, May 8, 2021

রবীন্দ্রাঞ্জলী

২৫ শে বৈশাখ বাঙালির ক্যালেন্ডারে এই তারিখটি যেন একটু ভিন্ন প্রকারের হয় অন্য বাকি দিনগুলো থেকে। সঙ্গীতপ্রিয় বাঙালির ভোরটা এই দিন শুরু হয় এক বিশেষ সঙ্গীত দিয়ে। সে সুর বাঙালির যেন একান্ত আপন। যার শব্দ যেন অমৃত সমান। সেই শব্দের মাধ্যমেই যেন বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত হয়  আজ ঈশ্বরের এক বরপুত্র আবির্ভূত হয়েছিলেন এই বাংলায়।

যার ক্ষুরধার লেখনী যেন প্রতিটি বিষয়কে মানব সম্মুখে এমন ভাবে তুলে ধরেছে, যা দেখে বলতে হয় - 'যে কথা সকলের অলক্ষ্যে ছিল, যা অন্তরের গোপনেই রয়ে গেল, মুখে এলো না, তা তোমার কলম কেমন করে জানল ? কে তোমায় বলে দিলো আমার স্বপ্নের কথা ?' তিনি ছিলেন এমন এক নক্ষত্র যে মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত অব্যক্ত মুহূর্তগুলিকে নিজ মনে ধারণ করে তা লেখনী দিয়ে অবলীলায় প্রকাশ করে দিতে জানতেন।

 শতবর্ষ পরেও বাঙালির অন্যতম গর্বের মানুষটা কোথাও যেন অক্লেশে বলে দিয়ে যাবেন, শতবর্ষ পরেও 'তিনি আছেন', 'তিনি থাকবেন' । যতদিন মানব সভ্যতা বিশ্বজুড়ে বিরাজ করবে, ততদিন বাঙালির মননের শিকড় জুড়ে তিনি বিরাজ করবেন।  প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ঋদ্ধ করে, সমৃদ্ধ করে, অবাক করে তিনি চিরদিন বাঙালিকে ঋণী করে রাখবেন। যে ঋণের সুদ বাড়বে দিন দিন কিন্তু কোনদিন শোধ হবে না। সেই বাঙালির একান্ত আপন রবিঠাকুরের আজ ১৬০ তম জন্মবার্ষিকী।

                            কবির শেষ জন্মদিন পালন
ঠিক এমন এক ভোরে, যখন সালটা ছিল ১৮৮৭। সরলা দেবী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাগ্নি) একজোড়া ধুতি - চাদর, একটি ইংরেজি কবিতার বই 'The poems of heine', নিজের হাতে গাঁথা বকুল ফুলের মালা নিয়ে নিঃশব্দে ঢুকে যান রবি মামার ঘরে। ঘুমন্ত কবিকে জাগিয়ে উপহার দিয়ে প্রণাম করেছিলেন। এটি ছিল রবীন্দ্রনাথের জীবনের প্রথম জন্মদিন পালন ঠাকুরবাড়িতে। 

                   শান্তিনিকেতনে কবির জন্মদিন পালন
এরপর কবির জীবনে বহুবার জন্মদিনের উৎসব ফিরে এসেছে। বলাবাহুল্য তিনি তাতে উৎসাহিত হতেন। কবির ৫০ তম জন্মবার্ষিকী শান্তিনিকেতনের আশ্রমবাসী মহাসমারোহে পালন করেছিলেন, তাতে কবি আপ্লুত হয়েছিলেন। এরপর কবির মুকুটে আসে নোবেল পুরস্কার। তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বকবি। তারপর থেকে ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনা সহ পশ্চিমের বিভিন্ন দেশ গুলিতে শুরু হয় রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করা। যা আজ আরও বিস্তৃতি লাভ করেছে। যদিও বিগত বছর থেকে করোনা পরিস্থিতিতে কোনো উৎসব, অনুষ্ঠান নেই এই পঁচিশে বৈশাখে। কিন্তু এটাও সত্যি রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসতে, শ্রদ্ধা জানাতে কোনো বিশেষ উৎসব লাগে না, কোনো বিশেষ দিন লাগে না বাঙালির। তার সাথে প্রতিটি বাঙালির এমনই নিবিড় সম্পর্ক যা জীবন্ত থাকে প্রতিক্ষণে। 

তাই এই বিপন্ন সময়ে মননের মাঝেই রবিস্মরণ করবে বাঙালি এবং বিশ্বজুড়ে সঙ্কটের মুখেও ভরসা জাগাবে তার বাণী - 'বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়।'

Friday, March 5, 2021

ভালো থেকো

 ম্যাগাজিনের প্রথম পাতাটা খুলতেই কলিংবেলটা বেজে উঠলো। এই দুপুরবেলা নানা সেলসম্যান আসে। বারবার অভয় না করেছে এরকম দুপুরে দরজা খুলতে। তাও কিছুটা বিরক্ত হয়েই তিতাস দরজাটি খুললো।
তিতাস - 'কি চাই?'
 কথাটি বলেই আর কোন শব্দ বলতে পারলোনা সে, উল্টোদিকের মুখটি তার অত্যন্ত পরিচিত।
'ভালো আছো ?' বলল রোহিত।
আসলে কেন্দ্র সরকারের জনসংখ্যাগণনা প্রকল্পের কারণে এখানে এসেছি। 'তোমাদের বাড়িতে কতজন আছে ?'
তিতাস বলল, 'তিনজন। আমি, আমার স্বামী এবং আমার ছেলে।'
 বলতে বলতে তিতাস লক্ষ্য করল দুপুর রোদে রোহিতের ফর্সা মুখ লাল হয়ে গেছে, সেই দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে পড়ল অন্য একটি দুপুরের ঘটনা..
সেদিনও রোহিতের মুখ লাল হয়েছিল শুধুমাত্র রোদের জন্য না সাথে ছিল রাগ। পঁচিশে বৈশাখের দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল সে তিতাসের জন্য কলেজ স্ট্রিটে। কিন্তু তিতাস শাড়ি পড়ে তার সামনে এসে দাঁড়াতেই সেই রাগের আর প্রকাশ ঘটেনি। নিস্পলক দৃষ্টিতে সে দেখছিল তিতাসকে, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তিতাসের।
'কতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি, অনুষ্ঠান বোধহয় শুরু হয়ে গেল চল' বলেই দুজন তাড়াতাড়ি প্রবেশ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। 
এইভাবে প্রায় যখন পাঁচ বছর হতে চলেছিল তাদের সম্পর্ক.. ইতিমধ্যে তিতাস ও রোহিত উভয়েই তাদের সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানিয়েছিল। হঠাৎ একদিন রোহিতের মা তিতাসের বাড়িতে এসে বলেছিলেন, তাদের ইচ্ছে বিবাহের জন্য রোহিত ও তিতাসের কুষ্টি বিচার হোক। কথাটা শুনে বিজ্ঞানের ছাত্রী তিতাস অবাক হয়েছিল। কিন্তু তার থেকেও বেশি হতাশ হয়েছিল যখন এক সপ্তাহ পরে রোহিত জানিয়েছিল, তাদের কোনদিনও বিয়ে করা সম্ভব না। কারণ তাদের কুষ্টি মেলেনি এবং তার বাড়ি থেকে অন্য একটি পাত্রীর সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে।
রাগে, অভিমানে তারপর আর কোনো কথা বলেনি  তিতাস। ঠিক এক মাস পরে কানে এসেছিল রোহিতের বিয়ের খবর। তার কিছুদিন পর তিতাসেরও বিয়ে হয়ে যায়। 
এসব স্মৃতি যেন হঠাৎই রোহিতকে দেখে মনে পড়ে যায়।  
তিতাস বলল, 'জল খাবে?' 
রোহিত বলল, 'না, অনেক বাড়ি যেতে হবে। ভালো থেকো।'
সামান্য বিদায়সূচক হাসি হেসে দরজাটা বন্ধ করে দিল তিতাস। 'ভালো থেকো' কথাটি তিতাসের খুব চেনা হয়ে উঠেছে আজ.. শেষ যেদিন দেখা হয়েছিল তাদের দুজনের, সেদিনও রোহিত ঠিক এই 'ভালো থেকো' কথাটি জানিয়ে গিয়েছিল। আজ আবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটল।

Tuesday, July 14, 2020

সমাজের 'ডাইনি' হত্যা - অপর্ণা পাল

সাধারণত আমরা কোনোদিনও কোনো ভূতেদের ধরা পড়তে দেখিনি। শুধুমাত্র গ্রামের নানা স্থানে ডাইনিরা ধরা পড়েছে। আজও একুশ শতকের সভ্যতায় গ্রামে গাছে গাছে সব ডাইনি বাঁধা থাকে। পরদিন খবরের কাগজে শিক্ষিত সমাজ পড়তে থাকে সেই ঘটনার হেডলাইন - "ডাইনি সন্দেহে পুড়িয়ে হত্যা"।

 এই সন্দেহ কথাটির বড় অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে কাদের সন্দেহ? কোনদিন কেন কাউকে ব্রহ্মদৈত্য সন্দেহ করা হয় না কিংবা রাক্ষস। শুধুমাত্র শোনা যায় ওঝা 'ডাইনি' ধরেছে। গ্রামের সবলোক জড়ো হয় কোনো এক বটতলাতে, উল্লাসের সথে তারা পুড়িয়ে মারে গ্রামের সেই ডাইনীকে। এই গল্প যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
 এখন প্রশ্ন হচ্ছে নারীরাই কেন এর শিকার হয়ে আসছে... এর উত্তরে বলা যায়, পিতৃকেন্দ্রিক মানসিকতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার এর প্রধান কারণ। এছাড়া অন্য কিছু কারণ হল, মেয়েদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা। আবার কখন গ্রামাঞ্চলের মানসিক স্বাস্থ্য বা হরমোনজনিত কারণে মেয়েদের স্বভাব এর কছু পরিবর্তন দেখা দিলে তা ডাইনির লক্ষণ বলে ধরে নেওয়া হয়।

এবার দেখা যাক, ইতিহাসের প্রথম সেই মহিলা যাকে বাইবেলে 'ডাইনি' আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। যে এই মানব সভ্যতার 'প্রথম ডাইনি'। যে নিজের অধিকার, অস্তিত্ব নিয়ে সচেতন ছিল। জিউশ বাইবেলে তার পরিচয় পাওয়া যায়। সেই নারী হল লিলিথ। অ্যাডামের প্রথম স্ত্রী লিলিথ। জানা যায়, ঈশ্বরের বাগানের যে মাটি দিয়ে ঈশ্বর অ্যাডামকে গড়েছিলেন সেই মাটি থেকেই তৈরি করেন তিনি লিলিথকে। ঈশ্বরের সৃষ্ট প্রথম নারী ও পুরুষ‌ অ্যাডাম ও লিলিথ। কিন্তু স্বভাবতই পুরুষ হওয়ার ফলে অ্যাডাম কর্তৃত্ব ফলাতে শুরু করলে লিলিথ তা মেনে নিতে চায় না। নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন লিলিথ জানায় একই মাটি দিয়ে তারা পরস্পর সৃষ্ট, ফলে আমরা দুজন সমান। এরপরে প্রতিবাদ গর্জে ওঠে লিলিথের মুখে। নিজের ডানা তৈরি করে এবং পাখা মেলে উড়ে যায় লিলিথ। অ্যাডামের পদতলে থাকতে হবে ভেবে সে স্বেচ্ছায় ত্যাগ করে ঈশ্বরের বাগান। ফলে ঈশ্বর অপমানিত হন, ঈশ্বর তাকে নানা অভিশাপ দেন এবং সৃষ্টি হয় শতাব্দীর প্রথম ডাইনি।

 আসলে সমাজ যখন কোনো মেয়েকে সামলাতে পারেনি, তখনই তাকে ডাইনি বলে দাগিয়ে দিয়েছে। আর এই দাগিয়ে দেওয়ার ভয়েই সমাজ মেয়েদের শিকল পরিয়ে রেখেছে। তবুও আজ ও সমাজের কোথাও কোথাও প্রতিবাদে গর্জে ওঠে এই লিলিথের সম্প্রদায়।
একটি গণনা অনুযায়ী দেখা গেছে ভারতে ১৯৯৫ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ডাইনি সন্দেহে হত্যা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। এর মধ্যে অবশ্য যারা ডাইনি সন্দেহে অত্যাচারিত, নিপীড়িত তাদের হিসেবটা ধরা হয়নি। বিহার,  ছত্রিশগড়, ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, আসাম এইসব রাজ্যগুলিতে এই ঘটনা ঘটেই চলছে। পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও এই জাতীয় ঘটনা দেখা যায়। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে এই ঘটনা বেশি দেখা যায়। কোনো কোনো সময় তা প্রশাসনের চোখে পড়লে মানুষের কিছুদিন হৈচৈ শোনা যায় তারপর আবার সবাই চুপচাপ হয়ে যায়।

শুধুমাত্র ভারতবর্ষে নয় গোটা পৃথিবীতেই 'ডাইনি'দের ছবি ধরা পড়ে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে তা অন্য মাত্রা পেয়েছে। কখনো, উনিশ শতকে ইউরোপে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা মহিলাদের ডাইনি বলে তুলে এনে পুড়িয়ে ফেলা হতো। কখনো, আমেরিকার নারীবাদী আন্দোলনের ঢেউ উঠলে তাদের ডাইনি বলে সম্মোধন করা হতো। গর্ভরোধ বা গর্ভপাতের দাবিতে যারা প্রথম সোচ্চার হন, সেইসব নারীদের ডাইনি বলে হত্যালীলা চালানো হয়। যেসব নারীরা প্রথম নারীদের যৌনতৃপ্তির কথা তুলে ধরেন সমাজের সামনে তাদের ডাইনি বলে গুম করে ফেলা হয়। আবার এদেশে দেখা গেছে, উত্তরপ্রদেশে কোনো মহিলা স্বামীর মৃত্যুর পরে সম্পত্তির দাবি করলে তাকে ডাইনি বলে পিটিয়ে ফেলা হয়েছে। আবার গ্রামাঞ্চলে কখনো কেউ অসামাজিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে সমাজের চোখে সেই হয়ে ওঠে ডাইনি। এভাবে যখনই কোন সংস্কৃতিতে নারীরা পুরুষের অনুশাসন থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে কিছু করতে চেয়েছে সমাজ তাকে ডাইনি বলে অপবাদে জর্জরিত করেছে, সাথে চলেছে এক জঘন্য হত্যালীলা।

তবে বর্তমানে এই সমস্যা আইনি পদক্ষেপ দ্বারা কিছুটা কমানো গেছে। 'ডাইনি প্রতিরোধ আইন' দ্বারা সরকার এইসব ঘটনা গুলি কিছুটা সমাধান করতে চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সময়ে সঠিক প্রমাণের অভাবে দোষীদের সনাক্তকরণ করা যায়নি। আবার কখনও সমাজের উচ্চস্থানীয় পদের নানা ব্যক্তিরা এই দোষীদের শাস্তি পেতে দেয়নি। তাই এই প্রথার অবসান ঘটাতে গেলে আগে সমাজকেই সচেতন হতে হবে। আমাদের সমাজ যদি এক উন্নত মানসিকতায় পরিপূর্ণ সমাজে পরিণত হয়। তবেই এই ডাইনি প্রথা একদিন পৃথিবী থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
  • তথ্যসূত্র - ১.আনন্দবাজার পত্রিকা সংস্করণ।
                   ২. বিকাশপিডিয়া।
                   ৩. উইকিপিডিয়া।
  • চিত্রসূত্র - উইকিপিডিয়া।

Tuesday, June 16, 2020

বিবাহ

দেশের এই করোনা বিপর্যয়ের কারণে লোকজনের জমায়েত প্রায় বন্ধ। তাই নানা উৎসব অনুষ্ঠান বর্তমানে স্থাগিত রাখা হয়েছে, যেমন তার মধ্যে বিবাহের অনুষ্ঠান অন্যতম। এই বৈশাখ, জৈষ্ঠ মাস হিন্দুদের বিবাহের জন্য এক অন্যতম সময় কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তা মূলত সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হচ্ছে। তাই অনেকের বিবাহ তারিখ নির্ধারণ হওয়ার ফলে ও বিবাহের লৌকিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না। এই বিবাহ মানব সমাজের প্রাচীনতম এক নিয়ম। যুগে যুগে এর আদিরূপ থেকে বর্তমান কাঠামোয় উপনীত হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতি ও বৈবাহিক জীবনকে প্রভাবিত করেছে নানাভাবে। কিন্তু মনে রাখার বিষয়, বর্তমানের বিবাহ রীতিই কিন্তু হিন্দুদের একমাত্র বিবাহ পদ্ধতি নয়। বৈদিক দর্শন অনুযায়ী প্রধানত বিবাহের ১০ টি ধরণ রয়েছে। আবার 'মনুস্মৃতি' এবং 'অর্থশাস্ত্রে'র আট প্রকার বিবাহ রীতি উল্লেখ করা হয়েছে। এই আট প্রকার বিবাহ রীতি যে বর্ণনা রয়েছে সেগুলি হল-
১. ব্রাহ্ম বিবাহ - কন্যাকে বিশেষ বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করে স্বর্ণ অলংকার ইত্যাদি দ্বারা সজ্জিত করে, বরকে স্বয়ং আমন্ত্রণ করে এনে, বেদ পাঠ করে মঙ্গলাচরণের মাধ্যমে কন্যা দান করা হয় তাকে ব্রাক্ষ বিবাহ বলে। 


২. প্রজাপত্য বিবাহ - যখন পাত্র, কন্যার পাণিপ্রার্থী হয়, তখন কন্যার পিতার সম্মতিতে যে বিবাহ হয়, তাকে প্রজাপত্য বিবাহ বলে। এই বিবাহ প্রথা বর্তমানে বাঙালি হিন্দু সমাজে প্রচলিত আছে।


৩. আর্য বিবাহ - এই বিবাহ বরের নিকট হতে একবার মাত্র দুটি গাড়ি বা ষাঁড় গ্রহণ করে যথাবিধি যজ্ঞ করে কন্যা দান করা হয়, তাকে আর্য বিবাহ বলে। এই বিবাহ অশ্ব বিবাহ নামেও পরিচিত। এই বিবাহ প্রথা শুধুমাত্র ভারতের বিহারীদের মধ্যে প্রচলিত।
৪. দৈব বিবাহ - এই বিবাহ পদ্ধতিতে পিতা নিরালঙ্কারা কন্যাকে যজ্ঞের অগ্নির সম্মুখে কোন সাধু-সন্ন্যাসীকে দান করে, এই বিবাহ প্রথা বেশিরভাগ সময়ই দেবতারা মানব কন্যা গ্রহণের সময়েই প্রযোজ্য ছিল। বর্তমানে এই প্রথার প্রচলন নেই বললেই চলে।
৫. গান্ধর্ব বিবাহ -  পিতা-মাতার অজ্ঞাতে কোন যুবক-যুবতী যখন গোপনে প্রেম করে এবং কিছু সময় পর গুরুজনদের অজান্তে পালিয়ে বিয়ে করে, সেই বিবাহকে গান্ধর্ব বিবাহ বলে। আবার কোথাও কোথাও যুবক-যুবতীর সম্মতিতে বিবাহের পূর্বে একত্রে সহবাস করাকেও কেউ কেউ গান্ধর্ব বিবাহ বলা হয়ে থাকে।


৬. আসুরিক বিবাহ - কন্যা পিতাকে পণ বা যৌতুক প্রদান করে পাত্র যদি বিবাহ করে, তাকে অসুর বা আসুরিক বিবাহ বলে। অনেক সময় পাত্র আকৃষ্ট থাকলে মেয়েটির প্রতি তখন কোনো আত্মীয়কে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বা ভুলিয়েও এই প্রকার বিবাহ করে থাকে। এই প্রকার বিবাহ বর্তমানেও বহু হয়ে থাকে কিন্তু তা বুঝতে বা জানতে পারা যায় না।
৭.  বৈশাখ বিবাহ - কন্যাকে অচেতন করে বা মানসিক ভাবে অসুস্থ করে, গোপনে তাকে বিবাহ করা হলে তাকে পৈশাচিক বিবাহ বলা হয়। এক্ষেত্রে দুজন প্রথমে প্রেম করবে, তারপর সুযোগ বুঝে গোপনে নারীকে মাদকদ্রব্য খাইয়ে অর্ধজ্ঞানহীন করে যৌনমিলন করা হয়ে থাকে। এরপর পুরোহিত ডেকে সেই নারীকে বিবাহ করা হয়। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই নারীকে বাধ্য হয়ে বিবাহ করতে হয়। এ বিবাহ প্রথা সাধারণত বাৎসায়নের যুগে ছিল।
৮.  রাক্ষস বিবাহ - কন্যার পিতাকে আহত বা হত করে, কন্যাকে বলপূর্বক হরণ করে বিবাহ করাকে রাক্ষস বিবাহ বলা হয়। এক্ষেত্রে কোনো রূপসী নারীকে লাভ করা দুষ্কর হলে, তাকে পুরাকালে ক্ষত্রিয় রাজারা এইভাবে বাহুবলে ধরে এনে বিবাহ করত। বর্তমানে এর প্রচলন নেই বললেই চলে।


এছাড়া বেদে আরও দু ধরনের বিবাহের কথা বলা আছে যা হল -
ক. অনুলোম বিবাহ - কোনো উচ্চবর্ণের পুরুষ যদি নিম্নবর্ণের কোনো নারীকে বিবাহ করে, তখন তাকে অনুরোধ বিবাহ বলা হত।
খ. প্রতিলোম বিবাহ - সমাজের উচ্চবর্ণের নারী যখন কোনো নিম্নবর্ণের পুরুষকে বিবাহ করত, তখন তাকে প্রতিলোম বিবাহ বলা হয়ে থাকে।
যদিও তৎকালীন সময়ে ধর্ম অনুযায়ী এই অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ সমাজে স্বীকৃত ছিল না।
বিবাহের এই একাধিক পদ্ধতি দেখা গেলেও বর্তমানের আধুনিক সমাজে প্রজাপত্য বিবাহের প্রচলনই দেখা যায়। সমাজে উন্নতির সাথে সাথে অন্যান্য বিবাহ প্রথার বিনাশ ঘটলেও একেবারে বিলুপ্ত সাধন যে ঘটেনি, তা আজকাল খবরের কাগজে 'বলপূর্বক বিবাহ', 'পণ দ্বারা বিবাহ' ইত্যাদি খবর থেকেই বোঝা যায়। তবে আশা করা যায় পরবর্তী শতকে সমাজের মানসিকতার উন্নতি সাধন ঘটলে এ ধরনের অসামাজিক বিবাহ পদ্ধতির সম্পূর্ণরূপে সমাপ্তি ঘটবে।
 তথ্যসূত্র-
১. বাংলাপিডিয়া।
২. উইকিপিডিয়া।

Tuesday, June 2, 2020

সাগরসঙ্গমে 'সন্তান বিসর্জন' - অর্পণা পাল

নবম শ্রেণীর পাঠ্য বইতে পড়তে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের 'সাগরসঙ্গমে'র মধ্যেই প্রথমবার 'গঙ্গায় সন্তান বিসর্জন' এর ঘটনার কিছুমাত্র আভাস পেয়েছিলাম। বিষয়টি তখন অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। কারণ, কোন মা তার সন্তানকে সাগরের জলে বিসর্জন দিতে পারে এই ঘটনাটাই ছিল আমার স্বপ্নাতীত! তখন জানতাম না, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এই দেশে ধর্মের নামে কত অনাচার হয়ে থাকে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সারা পৃথিবীতে ধর্মীয় কুসংস্কারের বলি হয়ে এসেছে সহস্ত্র নিরাপরাধ প্রাণ। এই ধর্মীয় কারণে নরবলি, সতীদাহ সহ শিশুহত্যার অন্যতম একটি জঘন্য প্রথা ছিল এই 'গঙ্গায় সন্তান বিসর্জন'।

 প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মীয় আচার আচরণে ভারতে নানা 'দান' এর কথা উল্লেখযোগ্য। অগ্নিতে, জলে, অনশনের দ্বারা ধর্মমূলক ব্রত পালনের মাধ্যমে অনেকেই আত্মদান করেছেন। তাদের মধ্যে নিজের সন্তানকে গঙ্গা বা অন্য কোনো পবিত্র নদীতে বা সাগরে উৎসর্গ করা 'দান' এর আরো একটি নৃশংস অধ্যায়। ভারতের উড়িষ্যা ও পূর্ব বাংলায় এই প্রথা প্রচলিত ছিল। যতদূর জানা যায়, স্ত্রীলোক বিবাহের পর অনেকদিন অপুত্রক থাকলে বা মৃত সন্তান প্রসব করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই মানসিক করত যে, প্রথম সন্তানকে তারা গঙ্গায় উৎসর্গ করবে। এরপর সন্তান জন্ম হলে তিন-চার বছর বয়সে একটি শুভ দিন ঠিক করে তাকে গঙ্গায় স্রোতে ভাসিয়ে দেওয়া হত। যদি নিজে থেকে শিশুটি ভেসে না যেত তবে বাবা-মা তাকে জলে ঠেলে অথবা ছুড়ে ফেলে দিত। গঙ্গাসাগরে এরূপ অনেক 'সন্তান বিসর্জন' দেওয়ার ঘটনা দেখা যেত।
Hugh Murray এক লেখায় বলেছিলেন, অনেকে ৩,৪ বছরের সন্তানকে জলে ভাসিয়ে দিত বা নিক্ষেপ করত এবং অন্য দয়াবান ব্যক্তিরা কখনো কখনো শিশুটিকে নিয়ে যেত। তিনি পরিসংখ্যান দেখে জানিয়েছিলেন দু'বছরে প্রায় 500 টি শিশু বিসর্জন দেওয়া হত। সময় সময় শিশুকে জলের কাছ থেকে কুমীরে টেনে নিয়ে যাবে এই অভিপ্রায় রাখা হয়ে থাকতো বলে জানা যায়।

 ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশদের চেষ্টায় দেশের অনেক কুপ্রথার নিবারণ ঘটে তার মধ্যেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য। এই 'সন্তান বিসর্জন' বিষয়ে উইলিয়াম কেরি তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলিকে একটি প্রতিবেদনে জানান, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে যে স্থান গঙ্গাসাগর নামে পরিচিত, সেখানে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে বহু পূর্ণার্থী আসেন। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, বেনারস ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন তীর্থযাত্রীদের সাথে একদল মহিলা সেখানে আসেন শিশুসন্তানকে উৎসর্গ করতে। তারা তাদের জ্যান্ত শিশুকে জলে ঠেলে ফেলে দেন। এতে নাকি গঙ্গাদেবী সন্তুষ্ট হন। এমন নিষ্ঠুর, বীভৎস  শিশুহত্যা যারা করে থাকে তারা মানবিকতার বা মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধী। লর্ড ওয়েলেসলি এই প্রতিবেদন পড়েন এবং এরপর ১৮০১ সালে সেপাই - সান্ত্রী নিয়ে পৌছে যান সেখানে এবং নানা কঠোর আইনিভাবে পদক্ষেপ নেন। পরবর্তীকালে ১৮০২ সালের ২০ আগস্ট কাউন্সিল থেকে জারি করা হয় রেগুলেশন - ৬। যাতে বলা হয়, যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত শিশুকে সাগর, গঙ্গা বা জলাশয়ে নিক্ষেপ করে হত্যা চেষ্টা করে তাহলে সেই ব্যক্তিকেও প্রাণদন্ডে দন্ডিত করা হবে।

গবেষকদের মতে, হিন্দু সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কারের বিষয়ে প্রথম হস্তক্ষেপ করেছিল ইংরেজ প্রশাসন। এর মূলে ছিল উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে একদল মহানুভব মিশনারী। অবশ্য অনেকেই বলেন, এই ধর্মযাজকদের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুধর্মের কুসংস্কার গুলিকে তুলে ধরে হিন্দুদের খ্রিস্টধর্মের স্থানান্তরিত করা। তবে বিতর্ক ছিল, তা চিরকাল থাকবে.. কিন্তু এই প্রথার অবসান ঘটেছে এক্ষেত্রে উইলিয়াম কেরির ভূমিকা কোনদিন ভোলার নয়। যদিও আজও গঙ্গাসাগরে কাতারে কাতারে পূর্ণার্থীর ভিড় দেখা যায় কিন্তু বর্তমানে এই বিসর্জন প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণরূপেই বিলুপ্তি ঘটেছে। তবুও সাগরসঙ্গমে বা গঙ্গানদীর বিভিন্ন প্রান্তে এখনো মাঘী পূর্ণিমায় মহিলাদের দেখা যায়, তারা তাদের শিশুসন্তানকে জলে ছুঁইয়ে কোলে তুলে নিচ্ছেন। তা অবশ্যই এই বিলুপ্ত প্রথার একটি প্রতীক মাত্র।
তথ্যসূত্র
১. প্রবাসী (আষাঢ় ১৩৩৩)
২. উইকিপিডিয়া
চিত্রঋণ
  উইকিপিডিয়া

Friday, May 29, 2020

পঙ্গপালের ইতিবৃত্ত - অর্পণা পাল

করোনা মহামারী - আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর এবার দেশে পঙ্গপাল বাহিনীর হানা! কিন্তু এই পঙ্গপাল আসলে কি?
                                ১. একটি প্রাপ্ত বয়স্ক পঙ্গপাল
'পঙ্গপাল' শব্দটা শুনে আমাদের প্রথমেই 'সহজ পাঠে'র একটি গল্পের কথা মনে পড়ে - 'পঙ্গপাল না তাড়াতে পারলে এবার কাজে ভঙ্গ দিতে হবে'। এছাড়া পঙ্গপালের ব্যাপারটা কিরূপ, সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা অস্পষ্ট। তার প্রধান কারণ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার অভাব‌। একসঙ্গে অগণিত পঙ্গপালের আক্রমণ যে কি ভয়াবহরূপ নিতে পারে তা হৃদয়ঙ্গম করা অসম্ভব। টিভির পর্দায় দেখে এই দৃশ্য আমরা ধারণা করতে পারি মাত্র, কিন্তু বাস্তব ঘটনার ভীষণতা উপলব্ধি করতে পারিনা।
                      ২. শহরাঞ্চলে পঙ্গপালের আক্রমণ
এই পঙ্গপাল মূলত একপ্রকার পতঙ্গ। সাধারণত এরা একাই থাকে। কিন্তু অনেক সময়ে এরা সংখ্যায় বেড়ে যায়। তখন তারা দল বেঁধে থাকে। আবার কখনও কখনও মস্তিষ্কে তৈরী হওয়া 'সেরোটোনিন' নামে নিউরোট্রান্সমিটারে এই পতঙ্গের স্বভাব বদলায়। তখন তারা ব্যাপক হারে প্রজনন করে ঝাঁকে ঝাঁকে অন্যত্র পাড়ি দেয়। 
এই পঙ্গপালের ইতিহাস বহু বছরের পুরোনো। প্রাচীন মিশরীয়দের কবরে এই পতঙ্গের ছবি দেখা যায়। এছাড়া প্রাচীন ধর্মগ্ৰন্থ ইলিয়াডেও এই পতঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া বাইবেলের মতো ধমগ্ৰন্থে এই পঙ্গপালের উল্লেখ পাওয়া গেছে। এখানে এই পতঙ্গকে ঈশ্বরের শাস্তিস্বরূপ প্রতিবিধান বলা হয়েছে।
                                   ৩. প্রাচীনকালে উল্লেখিত পঙ্গপালের চিত্র
  পঙ্গপালের আক্রমণ সৃষ্টির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়। সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পঙ্গপালেরা স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। এরা কোনো গুল্ম জাতীয়, তৃণভূমি বা শস্য ক্ষেতের মধ্যে প্রবেশ করার পূর্বে ও পরবর্তী অবস্থার মধ্যে বিস্তর পরিবর্তন দেখা যায়। ছোট ঘাসলতার কথা তো ছেড়েই দেওয়া যাক, এরা বড় বৃক্ষকে পত্রহীন করে ফেলতে পারে। ফলে নিমেষের মধ্যেই সবুজ বিস্তীর্ণ ভূমিকে এরা মরুভূমির রূপ দিতে পারে। হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে যাদুবলে কোন স্থানের পরিবর্তন হয়ে গেছে। এর থেকেই পঙ্গপালের শক্তির কিঞ্চিত ধারণা করা যায়। এই পঙ্গপালের আক্রমণ এর পরেই অনেক দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির দৃষ্টান্ত পাওয়া গেছে, আবার অন্যদিকে এই পঙ্গপালকে মানুষ নিজের খাদ্য বানিয়েছে। যা বিশ্বের অনেক দেশেই লোভনীয় খাদ্য।
                                    ৪. খাদ্যরূপে পঙ্গপালের ব্যবহার
 এই বিজ্ঞানের যুগেও পঙ্গপালের উপদ্রবের প্রতিকারের তেমন কোনো কার্যকর পন্থা আবিষ্কৃত হয়নি। ১৯২৮ সালে প্যালেস্টাইন এই পঙ্গপালের আক্রমণে শশ্মান ভূমিতে পরিণত হয়েছিল। ১৯২৫ সালে মিশরে পঙ্গপালের আক্রমণ হয়েছিল যা কীটবিজ্ঞানীদের দ্বারা কিছুটা আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়েছিল। এছাড়া আলজেরিয়া, পারস্য, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রাশিয়ার বহু স্থানে বছরের পর বছর ধরে পঙ্গপালের উপদ্রব দেখা গেছে। গত ২৫ - ৩০ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে এই পঙ্গপালের আক্রমণ তেমনভাবে ঘটেনি। তবে বর্তমানে রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাটে এই পঙ্গপালের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
                                     ৫. শস্যক্ষেতে পঙ্গপালের আক্রমণ
 বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জমিতে কীটনাশক ছড়িয়ে, যন্ত্রের সাহায্যে, আগুনের হলকা ছুঁড়ে, জলাশয়ে ফাঁদ পেতে ধরা হয়েছে পঙ্গপালদের। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এর প্রকোপ কমেছে। কিন্তু কম হলেও তা আজও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তারই দৃষ্টান্ত স্বরূপ এই পঙ্গপালের  আক্রমণের একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠতে চলেছে বর্তমানে আমাদের দেশে।
তথ্যসূত্র এবং চিএঋণ :-
উইকিপিডিয়া

Sunday, May 17, 2020

বর্তমানে বিপন্ন লোকসঙ্গীতের অস্তিত্ব - অর্পণা পাল

সংস্কৃতি সম্পূর্ণ বিশ্বের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। সেইসব লোকজ উপাদানের গর্ভে জন্ম নেওয়া লোকসংস্কৃতি বর্তমানে প্রায় অবলুপ্ত আবার কোথাও কোথাও তাতে লেগেছে আধুনিকতার হাওয়া। এই তালিকায় বাংলার লোকসংস্কৃতি ও বাদ যায়নি। বিনোদনের নানাবিধ পসরার দৌরাত্ম্যে বাংলার চিরন্তন লোকসংস্কৃতি কি হারিয়ে যাচ্ছে?
   বাংলা লোকসংস্কৃতি একটি বিরাট অধ্যায়। মানবজীবনের প্রতিটি পরতে যে বিষয়গুলি পরম্পরায় আবহমানকাল ধরে টিকে রয়েছে তার সবকিছুই লোকসংস্কৃতির উপাদান। আর এই লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো লোকসংগীত বা লোকগীতি। সংস্কৃতির উপর সংগীতের প্রভাব বিস্তর। মূলত এই সংস্কৃতি গুলি স্থাপন হয়েছিল আঠারো শতকে। গ্রাম-বাংলার লোকসংগীত এর মধ্যে বাউলগান, জারি, সারি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, মুর্শিদী, গম্ভীরা, লেটোগান, কবিগান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। গ্রামাঞ্চলের এই লোকসঙ্গীতের সাথে বাদ্যযন্ত্র হিসাবে মূলত একতারা, দোতারা, সারেঙ্গা, খোল, ঢোল, বাঁশী, খমক, মন্দিরা, কাঁসর, ঘণ্টা, মৃদঙ্গ, ডুগডুগি ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো।
                  ১. গ্ৰামবাংলার লোকসঙ্গীতের আসর
বাংলার লোকসংগীতের মধ্যে বিভিন্ন ধারার গানের পরিচয় পাওয়া যায়। সেসব গান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কতক গান একক কণ্ঠে গীত হতো, আবার কতক সমবেত কণ্ঠে। এদের মধ্যে যেগুলি ব্যক্তিবিশেষ রচয়িতা সেগুলি হল -
১. বাউল গান - বাউল একটি সাধন-ভজন গোষ্ঠী যারা গ্রামে গঞ্জে ভিক্ষা করে বেড়ায়। এরা দেহভিত্তিক সাধনার অনুসারী। এই সাধনায় সুফি ভাবনার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বাউলরা মন্দির-মসজিদে যায় না, কোন ধর্মগ্রন্থে তাদের বিশ্বাস নেই, মূর্তিপূজা, বর্ণবৈষম্য, জাতিভেদে তারা বিশ্বাসী নয়, তারা মানবতাবাদী। কেউ কোনোোদিন জন্ম থেকেই বাউল হতে পারে না, গুরুর নিকট দীক্ষা নিয়ে বাউল হতে হয়। এই সাধনা মূলত নারী-পুরুষ মিলিত যুগলসাধনা। তাদের এই সাধনার দর্শন ও মতামতকে তারা গানের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করে থাকে। বাউল মত সতেরো শতকে জন্ম নিলেও লালন সাঁই এর মাধ্যমেই বাউল গান উনিশ শতক থেকে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি শ্রেষ্ঠ বাউল গান রচয়িতা ছিলেন। তিনি প্রায় দু'হাজারের মতো গান বেঁধেছিলেন। রবীন্দ্রনাথও বাউল গান দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। যা পরবর্তীকালে 'তোরা যে যা বলিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই', 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে', 'গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গামাটির পথ', 'পাগলা হাওয়ায় বাদল দিনে' ইত্যাদি গানের মধ্য দিয়ে লক্ষ্য করা যায়। যা আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
                       ২.গ্ৰামের বাউল গান
২. ভাটিয়ালি - বাংলার লোকসংগীতে ভাটিয়ালি ভাটি অঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় সংগীত। যা বিশেষ করে নদ-নদী পূর্ণ বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এই গানগুলো মূলত প্রকৃতিতত্ত্বের গান। এই গানের মূল বৈশিষ্ট্য এগুলি রচিত হয় মূলত মাঝি, নৌকো, দাঁড় ইত্যাদি বিষয়ে। সাথে থাকে গ্রামীণ জীবন, গ্রাম্য নারীর প্রেম, বিরহ, আকুলতা ইত্যাদি। এই ভাটিয়ালি গান এই দেশের প্রানের চেতনা থেকে উৎসারিত। যেহেতু গানগুলি অপটু হাতে রচিত তাই গানগুলি গুণগত মান উন্নত না হলেও গ্রাম্য জীবনে এই গানের প্রচলন ছিল অত্যধিক। নদীর স্রোতের টানে নৌকো নিয়ে যাওয়ার সময় এই গানগুলো গাওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান যুগে এই ভাটিয়ালি গানকে এমনভাবে চোখে ধরা পড়তে দেখা যায় না। এই ভাটিয়ালি গানের অন্যতম রচয়িতা হলেন রশিদ উদ্দিন, জালাল খাঁ, কবি নিবারণ পণ্ডিত।
                     ৩.ভাটি অঞ্চলের ভাটিয়ালি গান
৩. মুর্শিদি - এই মুর্শিদি গান এক প্রকার আধ্যাত্বিক লোকসংগীত। সুফিদের দ্বারা এর উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। 'মুর্শিদি' শব্দটি আরবি, এর শব্দমূল 'এরশাদ', অর্থ হলো আদেশ উপদেশ দেওয়া। যিনি ভক্তকে আদেশ উপদেশ দেন এবং তাকে আধ্যাত্মিক পথে পরিচালিত করে তাকে বলে মুর্শিদি। এই মুর্শিদিকে সরাসরি সম্মোধন করে ভক্ত আত্মনিবেদন করে থাকে গানের মাধ্যমে। ভক্ত আপনভাবে বিভোর হয়ে যে গান গায়, তার সেই গানের মধ্য দিয়েই প্রকাশিত হয় তার দুঃখ বেদনার কথা প্রার্থনার আকুলতা সেই গানকে মুর্শিদি গান বলা হয়। মুর্শিদের গুনগান ছাড়া এতে নৌকো, পাখি, রাধাকৃষ্ণের প্রেম ইত্যাদি বর্ণনা করা হয়। অন্য কোনো জটিল তত্ব নেই এই গানে। এখানেই এই গান স্বতন্ত্র। বর্তমানে বাংলাদেশে আজও এই গানের অস্তিত্ব রয়েছে। কয়েকটি বিখ্যাত মুর্শিদি গান হল - 'দয়াল আমার কান্ডারী হইও রে' অথবা 'তুমি দাও দেখা দরদী রে আমায়'।
                 ৪. সুফিদের দ্বারা প্রস্তুত মু‌শিদি গান
৪. ভাওয়াইয়া - এই গান দিয়ে মূলত মনের ভাব প্রকাশ করা হত। এই গান পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে এবং আসামের পার্বত্য  অঞ্চলে, বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের গোয়ালপাড়ার মধ্যে প্রচলিত ছিল। এই ভাওয়াইয়ার মূল বৈশিষ্ট্য, এই গানগুলিতে পারিবারিক স্মৃতির ছবি, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্যপট, জনজীবনের জীবনযাত্রা, কর্মজীবন ইত্যাদি ছবি ফুটে উঠত। বাংলার উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী কম থাকায় সেখানে রাস্তায় গরুর গাড়ি দ্বারা চলাচল করতে হতো। এই গরুর গাড়ির গাড়োয়ান  গাড়ী চলা অবস্থায় আপন ভাবাবেগে কাতর হয়ে গান করত। উঁচু নিচু রাস্তায় গরুরগাড়ির চাকা পড়লে তার গানের সুরের মধ্যেও ভাঁজ পড়ত। এই সুরে ভাঁজ পড়ার রীতি ভাওয়াইয়া গানের এক লক্ষণীয় বিষয় যা এই গানকে অন্যান্য লোকসংগীত এর মধ্যে পৃথক করেছে। কবি আব্বাসউদ্দিনকে এই 'ভাওয়াইয়া গানের সম্রাট' বলা হয়।
                     ৫. বাংলার ভাওয়াইয়া গান
উপরিউক্ত সমস্ত প্রকার গানগুলি একক কণ্ঠে গাওয়া হতো, তা থেকেই গানগুলি রচিত হত। কিন্তু লোকসঙ্গীতের বিরাট একটি অংশের গান গাওয়া হতো সমবেত ভাবে অথবা কখনো কখনো নৃত্য নাটকের সাথে এই জাতীয় সংগীতগুলি পরিবেশন করা হত। সেগুলি হল -
১. কবিগান - কবিগান বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি বিশেষ ধারা। মধ্য যুগে এই কবিগানের উদ্ভব হলেও ১৭৬০ থেকে ১৮৩৭ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এই কবিগানের প্রকৃত বিকাশ ঘটে। এই ধারায় প্রতিযোগিতামূলক গানের আসরে অংশগ্রহণ করে থাকেন। যিনি গায়ক হন তিনি মুখে মুখে পদ রচনা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সুরারোপ করে থাকেন। এই গায়ককেই কবিয়াল বলা হয়। কবিয়ালের সহকারি গায়ককে দোহার বলে। এই প্রতিযোগিতায় কবিয়াল মুখে মুখে গান বেঁধে অপর পক্ষের কবিয়ালকে আক্রমণ করেন এবং তিনিও গানের মাধ্যমেই সেই আক্রমনের প্রতি উত্তর দেন।
আজ অবধি প্রায় একশ'র বেশি কবিয়াল কবিগানের বিকাশে অবদান রেখেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলেন গোজলা গুঁই, রাম বসু, ভবানী, ভোলা ময়রা, নিধুবাবু, মুকুল দত্ত, বিজয় সরকার প্রমুখ। এছাড়া, একজন পর্তুগিজ বণিকও বাংলার নামজাদা কবিয়াল হয়েছিলেন। তিনি হলেন অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি। এই অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির একটি বিখ্যাত পংক্তি যা তিনি ভোলা ময়রাকে গানের জবাব দিয়েছিলেন -
 "খ্রিস্ট আর কৃষ্ণে কিছু প্রভেদ নাই রে ভাই
 শুধু নামের ঘোরে মানুষ ফেরে, 
  এত কথা শুনি নাই।"
কিন্তু পরবর্তীকালে এই কবিগানের অবনমন ঘটে। এটি রূচিহীনদের সময় কাটানোর অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায় এবং জমিদারি  প্রথার অবসানের সঙ্গে সঙ্গে এই কবিগানের ঐতিহ্যও ধীরে ধীরে মুছে যায়।
                     ৬. বাংলার কবিগানের আসর
২. জারি গান - জারি গান বাংলার এক ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতরীতি। ফরাসিতে 'জারি' শব্দের অর্থ শোক। সতেরোশো শতক থেকে বাংলায় এই গানের ধারা শুরু হয়। ইসলামের ইতিহাসভিত্তিক নাট্যধারায় এই জারিগান সর্বাধিক জনপ্রিয়। মহরমের মাসে কারবালার দুঃখজনক কাহিনীর দ্বারাই এই গানের উদ্ভব ঘটেছিল। কারবালার যুদ্ধের অন্তর্গত বেদনার কথাই এক ধরনের  সুর, নৃত্য দ্বারা এই গানের পরিবেশিত হতো। এছাড়াও যেকোন ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয় নিয়েও কখনো কখনো জারিগান রচিত হত। কোথাও কোথাও আবার কবিগানের এক ভিন্ন রূপকেও জারি গান বলা হয়।একসময় সমগ্র বাংলায় এই গানের প্রচলন ছিল এমনকি শান্তিনিকেতনে এই জারি গান অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু বর্তমানে এই ধরনের নাট্য পরিবেশনার প্রচলন পূর্বের ধারাবাহিকতা চেয়ে কিছুটা কমে গেলেও একেবারে অবলুপ্তি ঘটেনি।
             ৭. মহরমের সময় পরিবেশিত জারিগান
৩. সারি গান - সারিগান বাংলার লোকসংগীত গুলির মধ্যে অন্যতম। সারিগান মূলত মাঝিরা গাইলেও অনন্য শ্রমজীবীদের মধ্যেও তার প্রচলন ছিল। নৌকার মাঝিরা একে অপরকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এই ধরনের গান গাইত। নৌকাবাইচের সময় প্রতিটি নৌকার যে প্রধান মাঝি থাকে, তিনি এই গানের মূলপদটি গাইতেন। অন্যান্য মাঝিরা তার সাথে সুর দিতেন দলবদ্ধভাবে। তবে প্রত্যেকেই নৌকার গতি ও তাল মিলিয়ে গান গেয়ে ও সুর দিয়ে যান। প্রাচীনকাল থেকেই যেসব উৎসব পালন হয় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো নৌকাবাইচ উৎসব। বর্ষাকালে উৎসবের সময় এই গান ছিল এই উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
   ৮. নৌকোবাইচের সময় গীত সারিগান
৪. গম্ভীরা - লোকসঙ্গীতের এক প্রাচীন ধারা হলো 'গম্ভীরা'। এই গম্ভীরার উৎপত্তি হয়েছে মূলত মালদহ জেলায় কিন্তু তৎকালীন সমগ্র বাংলা জুড়েই ছিল এর বিস্তৃতি। এই গম্ভীরা শব্দের অর্থ হলো শিবের মন্দির বা গাজন ঘর। শিবের এক নাম হলো গম্ভীর। একসময় এই শিবের পুজোয় বন্দনা করে যে গান গাওয়া হতো তাকে বলে গম্ভীরা। এই গম্ভীরা একত্রে দলবদ্ধভাবে গাওয়া হত। মধ্যযুগের সনাতনধর্মীদের প্রধান পূজ্যো দেবতা  ছিলেন মহাদেব। তাই এই শিব পূজোকে ঘিরে প্রায় সারা বছর ধরেই নানা উৎসব পালন করা হতো। তখন পালা-অভিনয় ও গম্ভীরা গানের মাধ্যমে সমাজের সমস্যা গুলি তুলে ধরা হতো। বর্তমানে চৈত্রসংক্রান্তিতে বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলের উৎসবে এই পালা-গম্ভীরা পরিবেশনা হয়ে থাকে। এই গম্ভীরার উল্লেখযোগ্য শিল্পী হল রকিবউদ্দিন, বীরেন ঘোষ প্রমূখ।
                      ৯. উৎসবে অনুষ্ঠিত গম্ভীরা
এই  একক কণ্ঠে গীত এবং সম্মিলিত কণ্ঠে গীত গান ছাড়াও গ্ৰামবাংলায় কিছু আঞ্চলিক লোকসংগীত এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেমন, পাহাড়ি অঞ্চলে ঝুমচাষ করার সময় তারা এক প্রকার সংগীত করত। লালমাটি অঞ্চলে ভাদু উৎসব, টুসু উৎসবেও একপ্রকার পাঁচালী গীত গাওয়া হতো। এছাড়া আধিবাসীদের উৎসবের সময় তারা প্রাচীন লোকসংগীত দ্বারা নৃত্য পরিবেশন করত। সেইসব সুরও বাংলার লোকসংগীতকে প্রভাবিত করেছে।
 কয়েকশো শতকের ঐতিহ্য ধারণকারী বাংলার লোকসংস্কৃতির সবচেয়ে জনপ্রিয় শাখা হলো লোকসংগীত। ঐতিহাসিক কাল থেকেই বাংলার মানুষ সঙ্গীতপ্রিয়। তাই প্রাচীনকালে এই লোকগীতি মানুষের সেই সঙ্গীত পিপাসু হৃদয়কে শান্ত করে এসেছে, একসময় এই লোকগীতি বেতারের মাধ্যমে প্রচার হতো যা শুনে গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শহরের মধ্যবিত্ত মানুষ সবাই আনন্দ পেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে লোকগীতির আসর খুবই কম দেখা যায়। বরং এই বিশ্বায়নের যুগে আমাদের সংগীত বাইরের দেশের সংগীত দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। তাই আমাদের উচিত নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে লোকসংস্কৃতি পুনরায় উজ্জীবিত করা। মনে রাখা প্রয়োজন আমাদের সমাজের শিকড় এই লোকসংস্কৃতি। তাই সমাজকে সজীব রাখতে শিকড়ের প্রতি যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র -

  • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস -  অসিত কুমার বন্দোপাধ্যায়
  • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - দেবেশ কুমার আচার্য
  • উইকিপিডিয়া
  • বাংলাপিডিয়া
চিত্রঋন -

  • উইকিপিডিয়া  

রবীন্দ্রাঞ্জলী

২৫ শে বৈশাখ বাঙালির ক্যালেন্ডারে এই তারিখটি যেন একটু ভিন্ন প্রকারের হয় অন্য বাকি দিনগুলো থেকে। সঙ্গীতপ্রিয় বাঙালির ভোরটা এই দিন শুরু হয় এ...